ক্রিকেটের চিত্রনাট্য মাঝে মাঝে বেশ অদ্ভুত বাঁক নেয়। পুরুষ দলে যেখানে চোটের ধাক্কা সামলে পুরনোদের ফেরার লড়াই চলছে, সেখানে নারী দলে লেখা হচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় ওঠার নতুন ইতিহাস।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডটা চোটের কারণেই অনেকটা পাল্টে গেছে। সিরিজ শুরুর আগেই ছিটকে গেছেন ওয়াশিংটন সুন্দর। আর তার বদলি হিসেবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডাক পেয়েছেন রবি বিশ্নোই। অন্যদিকে, কপাল পুড়েছে তরুণ তিলক বর্মার। হায়দরাবাদের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফি খেলার সময়ই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, পরে তো অস্ত্রোপচারই করাতে হলো তাকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ম্যাচে তাই তাকে বিশ্রামে পাঠানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আর এই সুযোগেই কপাল খুলেছে শ্রেয়স আইয়ারের। তিলকের জায়গায় স্কোয়াডে ঢুকে পড়েছেন তিনি।
শ্রেয়সের এই প্রত্যাবর্তনটা বেশ চমকপ্রদ। ভারতের জার্সিতে সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন সেই কবে, দু’বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে! আইপিএলে রান পেলেও ২০২৪ কিংবা ২০২৬-এর বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা হয়নি। গত বছরের আইপিএল ফাইনালটাই ছিল তার খেলা শেষ বিশ ওভারের ম্যাচ, যেখানে তার দল পাঞ্জাব বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে শিরোপা খুইয়েছিল। নিজের প্লীহায় চোট আর অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে সদ্যই নিউজিল্যান্ডের সাথে ওয়ানডে সিরিজে ফিরেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টির এই তিন ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে হয়তো বিশ্বকাপের দরজাও আবার খুলে যেতে পারে তার জন্য।
আর বিশ্নোইয়ের গল্পটাও অনেকটা একই রকম। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে অজানা কারণেই তাকে আর জাতীয় দলে বিবেচনা করেননি নির্বাচকরা। ঘরোয়া লিগ আর আইপিএলে ভালো খেললেও বারবার ব্রাত্যই থেকে যাচ্ছিলেন। সদ্য শেষ হওয়া সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে ৭ ম্যাচে ৯ উইকেট—খুব আহামরি কোনো পরিসংখ্যান হয়তো নয়। তবে তার বিষাক্ত লেগ স্পিন আর পুরোনো অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। একসময় বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি বোলার ছিলেন বিশ্নোই, সেই হারানো সিংহাসনের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
বিশ্নোইয়ের সেই হারানো সিংহাসনের গল্পটা যখন মনে পড়ছে, ঠিক তখনই মেয়েদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এক নতুন ইতিহাস লিখে ফেললেন আরেক ভারতীয় স্পিনার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ইংল্যান্ডের লিনসে স্মিথকে টপকে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠে এসেছেন চরানি। বাঁহাতি এই স্পিনার চলতি বিশ্বকাপে রীতিমতো আগুন ঝরাচ্ছেন, মাত্র ৩ ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন ১০টি উইকেট। ভাবা যায়, ২১ বছর বয়সী এই তরুণীর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে মোটে বছরখানেক আগে! লিডসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নেওয়ার পর, ম্যানচেস্টারে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারা ম্যাচেও ৩ উইকেট শিকার করে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
চরানির এই অভাবনীয় উত্থানে তিন নম্বরে নেমে গেছেন লিনসে স্মিথ, এবারের বিশ্বকাপে তার শুরুটা নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। তবে তার সতীর্থ চার্লি ডিন ৩ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছেন। এছাড়া সাবেক নাম্বার ওয়ান সোফি একলস্টোন চার ধাপ এগিয়ে চারে জায়গা করে নিয়েছেন। হাড্ডাহাড্ডি এই র্যাঙ্কিং লড়াইয়ে উন্নতি হয়েছে আরও বেশ কয়েকজনের—ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস (১১তম), অস্ট্রেলিয়ার পেসার কিম গার্থ (২০তম), পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা (২৫তম) এবং আয়ারল্যান্ডের পেস বোলিং অলরাউন্ডার ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট (২৬তম)।
বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে এত রদবদল হলেও ব্যাটারদের তালিকায় অবশ্য খুব একটা নড়চড় হয়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩ ইনিংসে মাত্র ৬২ রান করেও শীর্ষস্থানটা ঠিকই ধরে রেখেছেন অজি ওপেনার জর্জিয়া ভল। তার চেয়ে ৪৭ রেটিং পয়েন্ট পিছিয়ে দুইয়ে আছেন সতীর্থ বেথ মুনি। তবে তালিকায় বেশ ভালোই এগিয়েছেন শেফালি ভার্মা (৬ষ্ঠ), হারমানপ্রীত কৌর (১০ম), সোফি ডিভাইন (১১তম), প্রেন্ডারগাস্ট (১৩তম) আর বাংলাদেশের নিগার সুলতানা জ্যোতি (৩ ধাপ এগিয়ে ২০তম)।
অলরাউন্ডারদের সিংহাসনটাও আগের মতোই আছে, কিউই তারকা মেলি কেরকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানটা নিজের কাছেই রেখেছেন হেইলি ম্যাথিউস। তবে সেরা দশে ঢুকে পড়েছেন চামারি আতাপাত্তু (৩য়), প্রেন্ডারগাস্ট (৫ম) এবং ফাতিমা সানা (৬ষ্ঠ)। আর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো পারফর্ম্যান্সের সুবাদে ৫ ধাপ লাফিয়ে ৯ নম্বরে উঠে এসেছেন প্রোটিয়া তারকা মারিজান ক্যাপ।
