অর্থনৈতিক প্রস্তুতি বাংলাদেশে: আইএমএফের দৃষ্টিকোণ

অর্থনৈতিক প্রস্তুতি বাংলাদেশে: আইএমএফের দৃষ্টিকোণ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ওপর একাধিক কারণে প্রভাবিত হচ্ছে, এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বাংলাদেশের জিডিপির পূর্বাভাস ছয় শতাংশ, যা গত এপ্রিলে ছিল ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। আইএমএফের প্রধান কর্মকর্তা কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এই পরিস্থিতির জন্য বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের দায়ভার দেওয়ার কারণে এবং বাংলাদেশ যেসব প্রযুক্তিগুলি নেয় তা দেখানোর কারণে বলেছেন। বিশেষভাবে, মূল্যস্ফীতি ও প্রতিকূল রপ্তানির কারণে দেশটি প্রভাবিত হচ্ছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে শ্রীনিবাসন একসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈদেশিক চাহিদা কমার সাথে বৈশ্বিক অর্থ ব্যবস্থায় কঠোর পরিস্থিতি এখনো রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মূলত বাংলাদেশের জিডিপি প্রভৃতির ছোট হওয়ায় দেশটি এই আচারধর্মে প্রভাবিত হচ্ছে।

শ্রীনিবাসন জানাচ্ছেন, ‘এসব কারণেই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমরা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছি ছয় শতাংশ, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় অপরিবর্তিত আছে।’

তবে, বাংলাদেশ সরকারের দিকে দেখলে শ্রীনিবাসন একটি উজ্জ্বল দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে সরকারের প্রচেষ্টা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি বেশ যুক্তিসঙ্গত।’

বাংলাদেশ সরকারের দ্বারা স্থাপিত লক্ষ্য হচ্ছে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, যা তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এছাড়াও, দেশটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছে।

শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমি মনে করি, ঋণ কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা ও খুব কঠিন বৈশ্বিক পরিবেশে সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো পথে আছে।’

আইএমএফের ঋণের সঙ্গে যোগ হওয়া শর্তগুলির মধ্যে রাজস্ব বাড়ানোর শর্ত ছিল, কিন্তু ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর বাবদ তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা আদায়ের কথা ছিল, তবে এই লক্ষ্য অর্জন করা হয়নি। আসলে, চলতি অর্থবছরে সরকারকে জিডিপির শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে হবে।

শ্রীনিবাসন একটি উজ্জ্বল প্রস্তাবনা দিয়ে বলেছেন, ‘… বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণের জন্য রাজস্ব বাড়ানো। এটি অর্থনীতির উৎপাদনশীলতার সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে তুলবে।’

মতামত