ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

অবিলম্বে বিএনপির নিখোঁজ কর্মীদের খুঁজে বের করুন: ফখরুল

রাজনীতি
২০ নভেম্বর ২০২০ ২০:২৩
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ০১:১৩
অবিলম্বে বিএনপির নিখোঁজ কর্মীদের খুঁজে বের করুন: ফখরুল ফাইল ছবি

বিএনপির নিখোঁজ কর্মীদের খুঁজে বের করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে জুমমিটিং প্রেস কনফারেন্সে তিনি এ আহ্বান জানান। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়— গত মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) যুবদল নেতা লিয়ন হককে তার বাসা থেকে, গত বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় তুরাগ থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন পারভেজ তন্ময় এবং তার সঙ্গে তুরাগ থানা যুবদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম হাসিব এবং সন্ধ্যায় উত্তরা ৫নং সেক্টর থেকে উত্তরা-পশ্চিম থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস মজুমদার মাসুমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট থানাসহ ঢাকার বিভিন্ন থানা ও সংস্থার দফতরে যোগাযোগ করা হলে তাদেরকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। বিশেষ করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর সাদা পোশাকধারী পুলিশ কাউকে তুলে নিয়ে গেলে, তাকে খুঁজে বের করা দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। আমরা অবিলম্বে বিএনপির নিখোঁজ কর্মীদের খুঁজে বের করার দাবি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘গত ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বিরোধীদল বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রচারণায় ক্রমাগত বাধা প্রদান ও সহিংসতার মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর, মিছিলে হামলা ও বিএনপি নেতাকার্মীদের ভয়া দেখানো শুরু করে। নির্বাচনের দিন বিএনপির এজেন্টদেরকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। এদেরকে সহযোগিতা করে এবং অংশ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিয়োজিত সদস্যরা।’

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহ হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার চিরাচরিত ভঙ্গিতে উচ্চারণ করেন নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। অথচ ভোটারদের শতকরা পাঁচ ভাগও ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি।’

‘ভোটের এই ভয়াবহ চিত্রকে আড়াল করবার জন্য সরকার তাদের পুরোনো অপকৌশল দক্ষিণ ঢাকার কয়েকটি এলাকায় আকস্মিকভাবে তাদের এজেন্টদের দিয়ে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ করে এবং কোনো বিলম্ব না করে একই কায়দায় বিএনপিকে দোষারোপ করতে থাকে এবং সাথে সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু করে’— বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাশুকুর রহমানসহ প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করে। পরে আরও প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের মামলা দেওয়া হয় প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে।’


ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ঢাকা-১৮ প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ প্রায় এক হাজারজনকে আসামি করে ১৫টা মামলা দায়ের করা হয়। প্রত্যেকটা মামলাতে অজ্ঞাতনামা আসামির কথা উল্লেখ করা হয়।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গত পরশু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ প্রায় ২০০ জন নেতাকর্মী যখন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হচ্ছিলেন, তখন হাইকোর্টের গেটে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দারা বেশ কয়েকজনকে তুলে নিয়ে যায় এবং এদের কয়েকজনকে আটক করে রাখা হয়। সেদিন নিখোঁজ হয়েছিলেন ৯ জন। তার মধ্যে তিনজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে চার/পাঁচ দিন পরে। একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে পাঁচজন। এদেরকে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এখন পর্যন্ত এদেরকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’


মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১২ তারিখে নির্বাচনের দিন হঠাৎ করে দক্ষিণ ঢাকা সিটিতে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এগুলো ঠিক পূর্বের কৌশল— যে কথা আমরা আগেই বলেছি, নিজেরা অগ্নিসংযোগ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদেরকে হয়রানি করা হয়, গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন যে ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে সেটি হলো গুম। গুমের মধ্য দিয়ে গোট বাংলাদেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক অঙ্গনে ভয়-ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন, এখন পর্যন্ত ফিরে আসেননি। চৌধুরী আলম ‍গুম হয়েছেন, ফিরে আসেননি। লাকসামের এমপি পারভেজ গুম হয়েছেন, তিনিও ফিরে আসেননি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুম হয়ে যাওয়া, সভ্য দেশে চলতে পারে না। আমরা ল্যাটিন আমেরিকায় দেখেছি, এখন বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ করছি। শুধুমাত্র একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুমের মতো ভয়ংকর অপকৌশল নিয়েছে তারা।’