ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭

জয়ের সমান ড্র ভারতের

স্পোর্টস ডেস্ক
১২ জানুয়ারি ২০২১ ১০:৪৪
আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ০০:৪৬
জয়ের সমান ড্র ভারতের সংগৃহিত

চতুর্থ দিনের লড়াই শেষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেছিলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেই দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে।’ আর কে না জানে, একটা দল ঐক্যবদ্ধ হলে অসম্ভবকে সম্ভব করা কঠিন কিছু নয়। সিডনি যার প্রমাণ।

সিডনিতে সত্যি সত্যি অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ভারত। শেষ ইনিংসে ১৩১ ওভার ব্যাট করে টেস্ট ড্র করেছে তারা, যা জয়েরই সমান। সাম্প্রতিক অতীতে এটাই ভারতের সেরা ম্যাচ বাঁচানোর নিদর্শন। হনুমা বিহারি এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন চাপের মুখে এমন ইনিংস খেললেন যা ইতিহাস হয়ে রইল। ভারত দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে ৫ উইকেটে ৩৩৪ রান নিয়ে। বিহারি ১৬১ বল খেলে অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে। অশ্বিন ১২৮ বলে খেলে অপরাজিত ৩৯। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এরা দুজন ৪২.৪ ওভার উইকেটে থেকে মাত্র ৬২ রান করেন। কিন্তু এই সামান্য রানের মূল্য যে কত অসীম তা টের পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ ১-১ রেখে ব্রিসবেনে যেতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

এমন অসাধারণ খেলে সিডনি টেস্ট বাঁচিয়ে দেবে ভারত তা কি আগে থেকেই জানতেন অশ্বিন? না হলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে কেন বলবেনÑ ‘আমরা জানি, রাহানে ও পুজারা কত বড় মাপের ব্যাটসম্যান। মেলবোর্নে সেঞ্চুরি করেছে রাহানে। প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি রয়েছে পুজারার। প্রথম সেশনে ওদেরই দায়িত্ব নিতে হবে উইকেট না হারানোর। আমার বিশ্বাস, ওরা সফলভাবেই তা করে দেখাবে।’ পুজারা ২০৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে সফল হলেও রাহানে কিছু করতে পারেননি। পঞ্চম দিনের সকালে ভারত অধিনায়ক কোনো রান না করেই ৪ রানে আউট হয়েছেন। ২ উইকেট ৯৮ নিয়ে পঞ্চম দিনে লড়াই করতে নামা ভারতের স্কোর তখন ১০২। এখন থেকে প্রত্যাঘাত শুরু করেন ঋষভ পান্থ। কনুইয়ে আঘাত পেয়ে কিপিং করতে না পারা এই বাঁহাতিই ১১৮ বলে ৯৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। চা বিরতির আগে নাথান লায়ন তাকে আউট করেন। তখন ৭৯তম ওভারের খেলা চলছে। ভারতের স্কোর ২৫০। জয় দূরঅস্ত, ড্র করার পথটাও লম্বা তখন। পুজারার সঙ্গে যোগ দেন হনুমা বিহারি। আগের চার ইনিংসে যিনি ৮, ১৬, ২১, ৪ রান করেছেন। নেমেই তিনি পড়লেন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে। এরপরই জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হলেন পুজারা। যা দেখে কমেন্ট্রি বক্সে বসা হার্সা ভোগলে বলে উঠলেন, ‘টেস্ট বাঁচাতে ভারতের সম্বল এখন একজন মাত্র ব্যাটসম্যান যিনি আবার এক হ্যামস্ট্রিং নিয়ে ব্যাটিং করছেন।’

উইকেটে এলেন অশ্বিন। আগের দিন যিনি সিডনির উইকেট সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘প্রথম দু’দিন সে রকম রোদ পায়নি পিচ। তাই কিছুটা আর্দ্রতা ছিল। তৃতীয় দিন থেকে রোদ পেতে শুরু করেছে। চতুর্থ দিন যে বলগুলো অসমান বাউন্স করছিল, পঞ্চম দিন সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, রোদ পেয়ে ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ হয়ে উঠেছে এই উইকেট।’ নিজের কথা প্রমাণের ভার পড়ে তার ওপর। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন। যেভাবে ব্যাট করেছেন তা এক বীরত্বগাথা।

অশ্বিন যখন বিহারির সঙ্গে যোগ দেন তখনো দিনের খেলা শেষ হতে ৪৪ ওভার বাকি। ভারত দাঁড়িয়ে ৫ উইকেটে ২৭২ রানে। পরে তিন ঘণ্টায় যা দেখা গেল, তা কেবল ক্রিকেটপ্রেমীর কল্পনাতেই সম্ভব। শরীরে আঘাত পেয়েও অবিচল রইলেন অশ্বিন। আর ব্যথা-জর্জর হ্যামস্ট্রিং নিয়ে সম্ভবত জীবনের সেরা ইনিংসটা খেললেন বিহারি। ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে প্যাড পরে ব্যাট করার অপেক্ষায় রবিন্দ্র জাদেজাকে নামতে হয়নি। তার আগেই জয়ের সমান গৌরবের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত।

ম্যাচ শেষে অশ্বিনের স্ত্রী প্রীতি টুইট করে জানিয়েছেন এক গোপন কথা, যা কেউ জানত না, ‘গতরাতে অশ্বিন পিঠের যন্ত্রণায় কাবু ছিল। সকালে ঘুম ভাঙার পর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। জুতোর ফিতে বাঁধতে পর্যন্ত অসুবিধা হচ্ছিল। তবুও দেশের স্বার্থে অশ্বিন লড়াই করল। সত্যি অবিশ্বাস্য!’ পাল্টা টুইটে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অশ্বিন, ‘তোমার কথায় চোখে জল চলে এলো। এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।