ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

দূরের গ্রহ সম্পর্কে জানতে বিশেষ স্যাটেলাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৪৩
আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০ ১৩:০৭
দূরের গ্রহ সম্পর্কে জানতে বিশেষ স্যাটেলাইট ফাইল ছবি

বহুকাল ধরেই গ্রহের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে ধারণার উৎস ছিল সৌরজগত। তবে সৌরজগতের বাইরে ‘৫১ পেগাসি বি’ নামের প্রথম গ্রহ আবিষ্কারের পর সব পাল্টে যায়। গ্রহটি বৃহস্পতির মতো গ্যাস ভিত্তিক। যার কক্ষপথ নক্ষত্রের এতই কাছে যে, মাত্র চার দিনেই বছর শেষ! সৌরজগতে গ্যাসভিত্তিক গ্রহগুলো সূর্য থেকে অনেক দূরের কক্ষপথে বিচরণ করছে। কোনো গ্রহ দু-দুটি নক্ষত্র প্রদক্ষিণ করতে পারে -এমন দৃষ্টান্ত সম্পর্কেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

৪,১০০টিরও বেশি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে কিয়প্স নামের স্যাটেলাইট প্রথমবারের মতো এমন সব এক্সোপ্ল্যানেট পরীক্ষা করছে, যেগুলোর আকার পৃথিবীর তুলনায় এক থেকে পাঁচ গুণ বড়। সেটির মধ্যে এমন এক যন্ত্র রয়েছে, যেটি আলোর ক্ষুদ্রতম তারতম্যও পরিমাপ করতে পারে। ব্যার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো. ভিলি বেনৎস বলেছেন, ‘কিয়প্স আসলে এক ফলোআপ মিশন, আবিষ্কারের অভিযান নয়। অর্থাৎ লাখ লাখ নক্ষত্রের দিকে নজর দিয়ে আরও গ্রহ চিহ্নিত করা হচ্ছে না। কিয়প্স একটি করে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে।’

কোনো এক্সোপ্ল্যানেট যখন নক্ষত্রের সামনে চলে আসে, কিয়প্স তখনই সেটি পর্যবেক্ষণ করে। এ কাজ করতে স্যাটেলাইটের দৃষ্টিপথে কোনো বাধা থাকলে চলবে না। বায়ুমণ্ডল নক্ষত্র থেকে আসা আলো বিকৃত করে বলে সেগুলোর ছবিও স্পষ্ট ওঠে না। সে কারণে রাশিয়ার সোয়ুজ রকেটে করে কিয়প্স মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার ওপরে একটি কক্ষপথে সেটি বিচরণ করছে। সেখান থেকে এ স্যাটেলাইট এমনভাবে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে পারে, যাতে সেটির টেলিস্কোপ সবসময় রাতের অন্ধকার পায়।

মহাকাশের প্রায় সব অংশেই সেটি নজর দিতে পারে। কোনো গ্রহ সেটির নক্ষত্রের সামনে দিয়ে গেলে আলোর সামান্যতম পার্থক্যও শনাক্ত করতে পারে কিয়প্স। পৃথিবীর মতো বড়ো কোনো মহাজাগতিক বস্তু নক্ষত্রের আলোর এক শতাংশেরও মাত্র একশো ভাগ ম্লান করে দেয়।

কিয়প্স সেই মিটমিটে আলো এতটাই নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারে যে, গ্রহের আয়তন স্পষ্ট করে জানা যায়। জেনিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিদিয়ে কোয়েলস বলেছেন, ‘কিয়প্স গ্রহগুলো আবিষ্কারের পর ফলোআপ মিশন হিসেবে স্থির করা হয়েছে। অনেক গ্রহ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ভেবেচিন্তে লক্ষ্যবস্তুগুলো বেছে নিতে হবে। বেশিরভাগ কাজ ঠিকমতো করা হয়েছে।’

ভূ-পৃষ্ঠ ও কক্ষপথের টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ নক্ষত্র ও সেগুলোর গ্রহ সম্পর্কে অনেক উল্লেখযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। চিলির আটাকামা মরুভূমিকে একটি স্থাপনা প্রায় পাঁচ বছর ধরে মহাকাশে এক্সোপ্ল্যানেটের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিয়প্স আরও নিখুঁতভাবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।