ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭

আইনি লড়াইয়ে আসিফ-ন্যানসি

বিনোদন ডেস্ক
০৩ জানুয়ারি ২০২১ ১৯:০৭
আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০৭
আইনি লড়াইয়ে আসিফ-ন্যানসি সংগৃহিত

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসির করা মানহানির মামলা এখন শোবিজের অন্যতম আলোচনার বিষয়। কে মামলা করেছেন সে কথা প্রথমে না জানালেও পরে বিষয়টি নিজেই গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন আসিফ। তিনি বলেন, ‘কবে কখন এমন ঘটনা ঘটেছে, কিছুই জানি না। মামলার বিষয়ে ডিটেইলস কিছুই জানি না। শুনেছি মামলা ন্যানসি করেছেন। সবকিছু হাতে পেলে আইনিভাবে মোকাবিলা করব, কারণ বরাবরই আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আপাতত এর বেশি কিছুই বলতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যতই লুকিয়ে বেড়াই, ততই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে অযাচিত ঝামেলাগুলো। আমার বিরুদ্ধে কোনো রকম অপরাধ প্রমাণ করার কিছু আছে, তা আপাতদৃষ্টিতে দেখি না।’

বিষয়টি নিয়ে এতদিন চুপ ছিলেন ন্যানসি। বছরের প্রথম দিনেই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে একটি টিভি চ্যানেলকেই ছোট্ট ভিডিও বার্তা দেন তিনি। আর গতকাল জানালেন বিস্তারিত। ন্যানসি বলেন, ‘লোক হাসানোর কোনো ইচ্ছা বা রুচি আমার নেই। আমরা শিল্পী, পেশাগত কারণে হয়তো কখনো ট্রোল হতে হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এমন কিছু হলে সেটা খুবই কষ্টকর।’

মামলা প্রসঙ্গে ন্যানসি বলেন, ‘আমি মামলাটি করেছিলাম ৬ মাস আগে। বিষয়টি এতদিন বিবেচনা করে তা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেই এখন আসিফ আকবরকে ডাকা হয়েছে। যখন থেকে তিনি আমার বিরুদ্ধে জনসম্মুখে একের পর এক আজেবাজে মন্তব্য করছেন আমি চাইলে তখনই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে পারতাম। কিন্তু এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা আমার রুচির সঙ্গে যায় না। তাছাড়া তিনি আমার অনেক সিনিয়র শিল্পী। সংগীতাঙ্গনে তার অবস্থান নিয়ে কোনো প্রশ্নই তোলা যায় না। এজন্য আমি কখনোই চাইনি বিষয়টি মানুষের সামনে আসুক, আর তিনি ছোট হোন। তাই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।’

কিন্তু এখন তো মানুষ বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বলতে শুরু করেছে। তাহলে লাভটা কী হলো? জানতে চাইলে ন্যানসি বলেন, ‘এখনো আমি মুখ খুলতাম না, যদি তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস না দিতেন। সেখানে আমার নাম উল্লেখ না করলেও সবাই বুঝে গেছেন মামলা আমিই করেছি। এরপর তো একটি গণমাধ্যমে সরাসরি আমার নামটি বলে দিয়েছেন। তাই এখন আর চুপ থাকতে পারলাম না। এতদিন চুপ ছিলাম, কারণ আমি ভেবেছি একপক্ষ চুপ থাকলে অন্যপক্ষ হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পেরে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবে না। কিন্তু তিনি যে কোনো সুযোগ এলেই আমাকে পাগল, মিথ্যুক, খারাপ মানুষ এমনকি আমার পরিবার নিয়েও বাজে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। মানুষের তো ধৈর্যের সীমারেখা থাকে। এজন্যই আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি চেয়েছি তাকে আইনিভাবে এসব করতে নিষেধ করা হোক। আর এখন যখন বিষয়টি পাবলিকলি চলে এসেছে তখন আমি এখনো চুপ থাকলে মানুষ ভাববে আমারই ভুল। তাই নিজের বিষয়গুলো ক্লিয়ার করার জন্য কথা বলছি।’

কী কী ঘটেছে জানতে চাইলে ন্যানসি বলেন, ‘আমি ২০১৩ সালে আসিফ আকবরের সঙ্গে ১৩টি গান করি। সেই গানগুলোর রয়্যালটি বাবদ তিনি আমাকে দুই লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। এরপর যখন বাকি টাকা চাইতে গিয়েছি তখনই তার আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। তিনি আমার ফোন ধরতেন না। ২০১৪ সালে আমাকে নিয়ে আরেকটি অ্যালবাম করতে চাইলে আমি সেটা করতে রাজি হইনি। এরপর থেকে আমাদের আর কোনো কথা বা যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু আমি সেই টাকা পাওয়ার জন্য মামলা করিনি। এমন অনেক টাকা অনেককে ছেড়ে দিয়েছি। আমি এখন আমাকে নিয়ে বানোয়াট গুজব রটানোর জন্য মানহানির মামলা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন আমার পারিবারিক ঝামেলা মেটাতে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন, পরে তা আমি শোধ করেছি। কিন্তু এটা পুরোই মিথ্যা। এছাড়া বলেছেন আমার সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক, তার স্ত্রী আমাকে খুব স্নেহ করেন, আমার মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে তার সম্পর্ক খুব ভালো, আমার স্বামী তার কাছে কুমিরের ব্যবসার জন্য সাহায্য চেয়েছে। এই সবকটি তথ্যই মিথ্যা। তার সঙ্গে আমার কখনোই ওই কটা গান করা বাদে কোনো সম্পর্ক ছিল না। ফলে অন্য কথাগুলোর কোনো ভিত্তিই নেই। আসলে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে তিনি একটা গল্প বানিয়ে সবাইকে বলেছেন, যাতে সবাই সেটা সহজে বিশ্বাস করে। আমি চাই বিষয়টির সুরাহা আইনিভাবেই হোক। এভাবে যেন কোনো শিল্পীকে মানুষের কাছে অযথাই ছোট হতে না হয় সেটা কামনা করি।’