ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

টিউশন ফির চাপে অভিভাবকরা

আমার দেশ ডেস্ক
১২ নভেম্বর ২০২০ ১০:২২
আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২০ ১৬:২৭
টিউশন ফির চাপে অভিভাবকরা ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিউশন ফি আদায়ে অভিভাবকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়ছেন অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। এ বছর বার্ষিক পরীক্ষা না হওয়ার কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করছে। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই অ্যাসাইনমেন্টকে ইস্যু করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করতে চাইছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া করোনা মহামারির মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আগাম টিউশন ফি আদায় করছে। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, টিউশন ফি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক- দুই পক্ষকেই সহনশীল হতে হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অভিভাবকরা ফি না দিলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কীভাবে হবে। তবে একথাও সত্য যে করোনার কারণে বহু অভিভাবকের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মানবিক হতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বৈশ্বিক এই মহামারিকালে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সারাদেশের নিম্ন আয়ের অসংখ্য মানুষ। চাকরি হারিয়েছেন মধ্যবিত্তের অনেকে। গত ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ সংকটকালে বেতন-ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ না করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি জমা দিতে প্রতিনিয়তই অভিভাবকদের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ফোন করে তা পরিশোধের জন্য চাপও দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। বকেয়া রাখলে পরবর্তী সময়ে জরিমানাও গুনতে হবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে।

জানা গেছে, রাজধানীর সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সবচেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করছে অভিভাবকদের ওপর। তারা এসএমএস পাঠিয়ে টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি পরিশোধের তাগাদা দিচ্ছে। কেবল সাউথপয়েন্ট নয়, রাজধানীর প্রায় সব বেসরকারি বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল নিয়ে একই অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা। কখনও কখনও 'হুমকি'ও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। রাজধানীর অন্যতম নামিদামি প্রতিষ্ঠানের একটি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানটি বেতন রকেট, নেক্সাস পেসহ ইত্যাদি মাধ্যমে আদায় করছে। গত ২৪ ও ২৫ অক্টোবর রাজধানীর রূপনগরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন মওকুফের দাবিতে আন্দোলনে নামেন মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকরা। নাজমুন নাহার নেলী নামের এক অভিভাবিকা জানান, করোনায় অনেক অভিভাবক আর্থিক সংকটে রয়েছে। অনেকে সন্তানের টিউশন-পরীক্ষার ফি পরিশোধ করতে পারছেন না। অথচ মনিপুর স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে বকেয়া পরিশোধের জন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছিল। বকেয়া পরিশোধ করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অভিভাবকরা রাস্তায় নামার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ চাপ প্রয়োগ বন্ধ করেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন, আমরা বার বার বলছি টিউশন ফি আদায়ে কোনো প্রকারের জোরজবরদস্তি করা যাবে না। চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবসার জায়গা নয়, এটা মে রেখে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে।
জানা গেছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মূল শাখা এবং রূপনগর, ইব্রাহীমপুর ও শেওড়াপাড়ায় আরও তিনটি শাখায় প্রায় ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫৫০ টাকা করে বেতন আদায় করা হচ্ছে। নবম-দশম শ্রেণির (বিজ্ঞান) বেতন ১৭০০ টাকা। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি ভার্সনের বেতন তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে গত ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয় অনলাইন পরীক্ষার আয়োজন করে ২০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়। ফি না দিলে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না, অনলাইন লিংক দেওয়া হবে না- এমন হুমকি দেওয়া হলে অভিভাবকরা আন্দোলনে নামেন। তাদের আন্দোলনের মুখে ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে স্থানীয় সাংসদ ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ না করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। অভিভাবকরা এ সময় ৫০ শতাংশ ফি মওকুফ করার দাবি করেন। প্রতিমন্ত্রী করোনায় আর্থিক ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন করার পরামর্শ দেন। জানা গেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট ফরমে বিপুল সংখ্যক অভিভাবক ফি আংশিক অথবা সম্পূর্ণ মওকুফ করার আবেদন করেছেন। গত ৫ নভেম্বর আবেদন করার সময় শেষ হয়।