ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

ভুল প্রশ্ন ও নোট গাইড বন্ধে এবার এ্যাকশনে সরকার

সেন্ট্রাল ডেস্ক
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:১৮
আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২০ ০২:৫১
ভুল প্রশ্ন ও নোট গাইড বন্ধে এবার এ্যাকশনে সরকার সংগৃহিত

স্টাফ রিপোর্টার: চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন ও নোট-গাইড থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেয়ার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ দেশজুড়ে অবৈধ নোট গাইড বিক্রি বন্ধে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি বলেছেন, ‘ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তাদের উত্তরপত্র আলাদা করে রাখা হয়েছে।’ আমরা সব ধরনের নোট-গাইড বন্ধ করে দিতে চাই মন্তব্য করে মন্ত্রী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নোট- গাইড বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রে বহু জেলায় ভুল প্রশ্ন বিতরণ ও গাইড বইয়ের প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘স্কিলস রেডিনেস ফর এ্যাচিভিং এসডিজিস এ্যান্ড এ্যাডাপ্টিং আইআর ৪.’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত ঢাকা ঘোষণা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনের ওই ইস্যুকে ছাপিয়ে সামনে আসে পরীক্ষার জটিলতা ইস্যু। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সভাপতি একেএম হামিদ ।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার প্রথম দিন ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বহু জেলা ও উপজেলায়। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে অসংখ্য পরীক্ষার্থী। কোথাও কোথাও ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর তাকে আবার ডেকে এনে আসল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবাদ হয়েছে কোথাও কোথাও। বরিশাল, যশোরের চৌগাছা, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, নীলফামারী, ময়মনসিংহের গফরগাঁওসহ অনেক এলাকায় ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ’১৮ সালের সিলেবাস অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নে উত্তর লিখতে হয়েছে। এছাড়া গাইড বই থেকে হুবহু তুলে দেয়া হয়েছে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড।

গাইড বইয়ের সঙ্গে প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তদন্ত শুরু করেছে। চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, তদন্ত শুরু করেছি। কোন্ বোর্ডের কে কীভাবে করেছে, তা তদন্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গাইড বই নিয়েও তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত কমিটি আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারবে।

ঠিক এমন অবস্থার মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নোট বই ও গাইড বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। বলেন, নোট ও গাইড প্রকাশ করা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে এসব বইয়ের বিক্রি বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে বই কিনতে বাধ্য করা হয়। এই চর্চা বন্ধ করতে হবে। আমরা গাইড ও নোট বই ব্যবহার বন্ধ করতে চাই। সৃজনশীল পদ্ধতিতে এগুলো পড়ানোর দরকার পড়ে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একা এসব বন্ধ করতে পারবে না। জেলা প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা লাগবে।

যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ভুল প্রশ্নে নেয়া হয়েছে, তাদের উত্তরপত্র আলাদা করে রাখা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এরা কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বোর্ডের নির্দেশ মেনে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের বসানোর আলাদা ব্যবস্থা করলে এই সমস্যা হতো না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা সে সকল উত্তরপত্র আলাদা করে রেখেছি, পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার ৫২ হাজার কক্ষে মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। ভুল প্রশ্ন বিতরণের ঘটনা ঘটেছে ১৫ কক্ষে। সেই অর্থে সংখ্যার হিসেবে হয়ত খুবই নগণ্য। কিন্তু এই পনেরোটিইবা কেন হবে?

যে শিক্ষক সেখানে আছেন তিনি প্রশ্নপত্র দেবেন। প্রথমে কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার, পুলিশের প্রতিনিধিসহ প্রশ্নপত্র খোলার প্রক্রিয়া দেখবেন। এর পর শিক্ষকরা সেটকোড অনুযায়ী দেখে বের করবেন। যে শিক্ষক বিতরণ করতে যাচ্ছেন তার দেখার কথা। এমনকি পরীক্ষার্থীরা কিন্তু প্রশ্ন পাওয়ার পর, তারও দেখার কথা।

মন্ত্রী আরও বলেন, ল্যাপস হয়ে গেলে অনেক ধাপে হয়। যেখানে সমস্যা হয়েছে সব ধাপেই সমস্যা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা তখন উৎকণ্ঠায় থাকে, সে নাও দেখতে পারে। কিন্তু বাকিদের দেখা অবশ্য কর্তব্য, দেখতেই হবে।

গাইড বইয়ের প্রশ্ন হুবহু অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোন প্রশ্ন একেবারে রিপিট হবে না। সেটা করা কিন্তু শক্ত। গাইড বইগুলো তো বোর্ডের প্রশ্ন নিয়ে ছাপায়। ৫ হাজার ৫৮০ সেট প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়েছে। কত বিশাল কর্মযজ্ঞ, একবার শুধু চিন্তা করে দেখুন। সেখান থেকে ২ হাজার ৭৯০ সেট প্রশ্ন ছাপানো হয়েছে। অনেক সেটার ও মডারেটর লাগে- যারা প্রশ্ন সেট করেন সেটি যেমন বোর্ডের কেউ দেখতে পারে না, দেখার সুযোগ থাকে না। কিছু না কিছু প্রশ্ন সারা জীবনই রিপিট হয়।

এসএসসি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিজেদের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দীপুমনি বলেন, আমরা তো তার আগের ১০ বছরের প্রশ্ন দেখে আন্দাজ করে পড়তাম। একেবারেই কোন প্রশ্ন কোনদিন রিপিট হবে না, এটা কিন্তু ইম্পসিবল। তাহলে একদম বইপত্রই পুরো পাল্টে ফেলতে হবে। এর পরও গাইড বইয়ের প্রশ্ন হুবহু হওয়া উচিত নয়। কারা ওই প্রশ্নপত্র করেছেন তা শনাক্ত হয়েছে। সরকার গাইড বই, নোটবই ব্যবহার বন্ধ করতে চায়। কারণ এখন যে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়, তাতে গাইড বইয়ের প্রয়োজন পড়ার কথা নয়।

গাইড ও নোট বইয়ের বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনেরও সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সারাদেশে, প্রতিটি জায়গায় এসব্ বিষয় বন্ধ করা কোনদিনই সম্ভব নয় যদি আমরা সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা না পাই।