রেকর্ড উচ্চতায় সোনা: প্রথমবারের মতো ৫,৩০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ

রেকর্ড উচ্চতায় সোনা: প্রথমবারের মতো ৫,৩০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ

বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে। বুধবার প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,৩০০ মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক সীমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন ডলারের ক্রমাগত দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করায় সোনার এই ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে।

লন্ডন সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে স্পট গোল্ডের দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ৫,২৬৬.২২ ডলারে দাঁড়ায়, যদিও দিনের শুরুতে এটি ৫,৩১১.৩১ ডলারের রেকর্ড উচ্চতা স্পর্শ করেছিল। এর আগের দিনও সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে, ফিউচার মার্কেটে আগামী ফেব্রুয়ারিতে হস্তান্তরের জন্য সোনার দাম ৩.৫ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ৫,২৬০.৪০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

ডলারের দরপতন ও ট্রাম্পের বক্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর ডলারের মান গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডলারের এই দুর্বলতা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডলারের মান কমে যাওয়ার বিষয়ে কিছুটা উদাসীনতা প্রকাশ করে জানান, একটি দুর্বল মুদ্রা মূলত মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য সহায়ক হতে পারে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে একটি দুর্বল ডলার নীতির দিকেই ঝুঁকছে। ওয়ান্দা (OANDA)-র জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে মার্কিন প্রশাসন ডলারের মান কম থাকার বিষয়ে একমত। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডলার নিয়ে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা সরাসরি সোনার দামকে উসকে দিচ্ছে।

ফেড রিজার্ভের ভবিষ্যৎ ও বাজার পরিস্থিতি

সোনার এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কেবল বাজারের অস্থিরতা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কাজ করছে বলে মনে করেন এক্সএস ডট কম (XS.com)-এর বিশ্লেষক লিন ট্রান। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব শীঘ্রই ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধানের নাম ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নতুন প্রধান দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার আরও কমতে পারে।

সাধারণত সুদের হার কম থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন কারণ এতে বাড়তি কোনো সুদ গুনতে হয় না। উইজডম-ট্রি-র বিশেষজ্ঞ নীতেশ শাহ মনে করেন, ট্রাম্প যাকে মনোনীত করবেন তিনি বর্তমান প্রধান পাওয়েলের তুলনায় প্রেসিডেন্টের দাবিদাওয়া বা চাপের মুখে নমনীয় হতে পারেন। এমন সম্ভাবনা সোনার বাজারকে আরও শক্তিশালী করছে।

বিনিয়োগ চাহিদা ও আগামীর পূর্বাভাস

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছরের রেকর্ড সাফল্যের পর এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের এই ব্যাপক চাহিদার কারণে চলতি বছরেই সোনার দাম আউন্স প্রতি ৬,০০০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, রেকর্ড দাম থাকা সত্ত্বেও সাংহাই ও হংকংয়ের বাজারে সোনার খুচরা চাহিদা বেশ চাঙ্গা। জুয়েলারি খাতে আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদা কিছুটা কমলেও, খুচরা বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সোনাকে একটি লাভজনক ফাটকা বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম সোমবার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছালেও বুধবার কিছুটা কমে ১১২.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে রুপার দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

বাণিজ্য