ভারতের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে হারের ক্ষত এখনো দগদগে, কিন্তু সেই হতাশা আঁকড়ে ধরে বসে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ দলের। অ্যাডিলেডের হারের রেশ না কাটতেই নতুন ভেন্যুতে নতুন মিশনে নেমে পড়েছেন সাকিবরা। সুন্দর ও সুপরিসর একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুশীলন সেরেছে টাইগাররা। গাছপালায় ঘেরা মনোরম এই ভেন্যুতে সাধারণত বিগ ব্যাশ ও মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই কঠোর অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়ে বাংলাদেশ দল এখন তাকিয়ে আছে তাদের শেষ প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের দিকে।
সেমিফাইনালের সমীকরণ ও টিম ম্যানেজমেন্টের কড়া বার্তা
ভারতের কাছে হেরে বড় সুযোগ হাতছাড়া হলেও সেমিফাইনালের গাণিতিক আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। যদিও সমীকরণটি বেশ জটিল, তবুও দলের অন্দরে চলছে ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক কিছুর স্বপ্ন বোনা। সাধারণত দীর্ঘ সফরের শেষ দিকে ক্রিকেটারদের মনোযোগে চিড় ধরে, দেশে ফেরার তাড়া কাজ করে। তবে এবার বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস বিষয়টি নিয়ে বেশ সতর্ক। তিনি জানিয়েছেন, দলের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীরাম স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ৭ তারিখেই দেশে ফিরতে হবে—এমন চিন্তা যেন কেউ না করে। শেষ ম্যাচটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জয়ের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিতে প্রস্তুত গোটা দল।
রোববারের ম্যাচে সবার নজর থাকবে নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলার দিকে। ডাচরা যদি প্রোটিয়াদের হারিয়ে অঘটন ঘটাতে পারে, তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের দুয়ার খুলে যেতে পারে। জালাল ইউনুসও স্বীকার করেছেন, এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই রোমাঞ্চকর হয়েছে এবং যেকোনো কিছুই ঘটা সম্ভব। তবে এসব সমীকরণের চেয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়টাকেই এখন পাখির চোখ করছে বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যানের ভয় বনাম তাসকিনের আত্মবিশ্বাস
পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে না। দুদলের সর্বশেষ ১৭টি টি-টোয়েন্টি সাক্ষাতের ১৫টিতেই জিতেছে পাকিস্তান। শক্তিমত্তায় যোজন যোজন এগিয়ে থাকা বাবর আজমদের বিপক্ষে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে ‘আন্ডারডগ’। তবে পেসার তাসকিন আহমেদ পরিসংখ্যানের পাতায় আটকে থাকতে নারাজ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অনিশ্চয়তাই তাঁকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
তাসকিনের মতে, মোমেন্টাম বদলাতে একটি ভালো ওভারই যথেষ্ট। বোলাররা যদি পাকিস্তানকে ১৫০-১৬০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারে, তবে রান তাড়া করে জেতা সম্ভব। আর আগে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়লে তা ডিফেন্ড করার সামর্থ্যও দলের আছে। যদিও সবকিছু নিজেদের হাতে নেই, তবুও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনার পালে কিছুটা হলেও হাওয়া লেগেছে।
রঞ্জি ট্রফি ছেড়ে ভারত ‘এ’ দলে ডাক পেলেন বাদোনি ও আরিয়া
এদিকে বিশ্বকাপের আবহের মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের প্রস্তুতি। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে অংশ নিতে ডাক পেয়েছেন দিল্লির দুই তরুণ প্রতিভা—আয়ুশ বাদোনি এবং প্রিয়াংশ আরিয়া। সিনিয়র দলের বিপক্ষে এই ওয়ার্ম-আপ ম্যাচগুলো খেলার জন্য তাঁদের দিল্লি রঞ্জি ট্রফি দল থেকে অব্যাহতি (রিলিজ) দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি নাভি মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ৬ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরুতে নামিবিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত ‘এ’ দল। বাদোনি এর আগেও ভারত ‘এ’ দলের হয়ে লাল ও সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের জাত চিনিয়েছেন, তবে প্রিয়াংশ আরিয়া এবারই প্রথম এই পর্যায়ের স্কোয়াডে সুযোগ পেলেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে রঞ্জি ট্রফির সপ্তম রাউন্ডে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে দিল্লিকে নেতৃত্ব দেবেন আয়ুশ দোসেজা। এই ম্যাচকে সামনে রেখে দিল্লি তাদের নতুন স্কোয়াডও ঘোষণা করেছে, যেখানে জায়গা পেয়েছেন অনুজ রাওয়াত ও সনত সাংওয়ানের মতো ক্রিকেটাররা।
